সুইস পণ্যের ওপর আরোপিত মার্কিন শুল্ক কমে এল। গত আগস্টে কার্যকর হওয়া ৩৯ শতাংশ এখন ১৫ শতাংশে নেমে এল। গতকাল সুইজারল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, শুল্ক হ্রাসের এ প্রভাব ১৪ নভেম্বর থেকে সব রফতানির ওপর প্রযোজ্য হবে। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ড ১৪ নভেম্বর একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। সেখানে সুইস পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয় ওয়াশিংটন। অন্যদিকে ২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দেয় সুইস কোম্পানিগুলো।
আগস্টে সুইজারল্যান্ডের ওপর শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ন্যায্যভাবে বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবেলা করতে হবে।
সুইজারল্যান্ডের ওপর আরোপিত এ শুল্ক ইউরোপীয় দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ ছিল, যা দেশটির বিস্তৃত ব্যবসা ও শিল্প খাতকে প্রভাবিত করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন অনেকে।
সুইস সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি পণ্যের শুল্ক সংক্রান্ত নিয়মাবলি ১৪ নভেম্বর থেকে পশ্চাৎপ্রভাবসহ কার্যকর হবে। অর্থাৎ ওই সময় থেকে নেয়া শুল্ক ফেরত বা সমন্বয় করা হবে।
গত মাসের ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রফতানি হওয়া কিছু মাংসজাত পণ্যের নির্দিষ্ট কোটার ওপর আরোপিত শুল্ক তুলে নিতে সম্মত হয়েছিল সুইজারল্যান্ড।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সুইস প্রযুক্তিপণ্য রফতানি গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তুলনায় নাটকীয়ভাবে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।
সুইস-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে ইউরোপের দেশটির একাধিক পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে বিলাসপণ্য, স্বর্ণ বা পণ্য বাণিজ্যে যুক্ত কিছু উদ্যোক্তা আগে থেকেই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন।
সেপ্টেম্বরে ইউএস ওপেন টেনিস ফাইনালের ভিআইপি বক্সে ট্রাম্পকে সুইস ঘড়িনির্মাতা রোলেক্সের প্রধান নির্বাহী জ্যঁ ফ্রেদেরিক দ্যুফুর সঙ্গে দেখা যায়।